হেদায়েতের মালিক আল্লাহ: মুফতী বশির আহমেদের বয়ান থেকে শিক্ষা
হেদায়েত আল্লাহর হাতে: নবীজির চাচার করুণ কাহিনী
হেদায়েতের অর্থ ও আলেমদের দায়িত্ব
সাহাবীর মজার ঘটনা ও ঈমানের শক্তি
নবীগণ নিষ্পাপ: একটি গুরুত্বপূর্ণ আকিদা
জীবন পরিবর্তনের জন্য অবশ্য বর্জনীয় তিনটি অভ্যাস
আমরা সবাই জীবনে সফলতা চাই, একটি সুন্দর ও অর্থবহ মুসলিম জীবন যাপন করতে চাই। কিন্তু অনেক সময় আমাদের কিছু অভ্যাস অজান্তেই ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়। আজকের ইসলামী চিন্তা বিভাগে আমরা এমন একটি হৃদয় স্পর্শী ওয়াজ নিয়ে আলোচনা করব, যা আমাদের জীবন পরিবর্তন করতে সহায়ক হবে। প্রখ্যাত আলেম মুফতি মুশাহিদ কাসেমী তার এক আলোচনায় মানুষের জন্য ধ্বংসাত্মক এবং মুক্তি উভয়ের পথ বাতলে দিয়েছেন। এই new islamic waz থেকে আমরা শিখব কোন তিনটি অভ্যাস আমাদের ধ্বংস করে এবং কোন তিনটি অভ্যাস আমাদের মুক্তি দেয়।
যে তিনটি অভ্যাস মানুষকে ধ্বংস করে
আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, তিনটি জিনিস মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। এই তিনটি বদভ্যাস মানুষের দুনিয়া এবং আখিরাত উভয়ই নষ্ট করে দেয়। প্রখ্যাত আলেম mushahid qasemi এই বিষয়গুলো চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন।
১. স্বার্থপরতা
ধ্বংসের কারণগুলোর মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে মারাত্মক হলো স্বার্থপরতা। স্বার্থপর মানুষ দুনিয়া ও আখিরাত কোনোটিতেই সফল হতে পারে না। স্বার্থপরতা এমন একটি রোগ যা প্রায় সব মানুষের মধ্যেই কমবেশি থাকে, কিন্তু যখন এটি অন্যের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসাকে ছাপিয়ে যায়, তখনই বিপদ ঘনিয়ে আসে। এই new bangla waz অনুসারে, স্বার্থপরতা থেকেই আরও অনেক বড় বড় গুনাহর জন্ম হয়। যেমন:
জুলুম: স্বার্থপর ব্যক্তি নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য অন্যের ওপর অত্যাচার বা জুলুম করতে দ্বিধা করে না। সে যোগ্য ব্যক্তিকে তার প্রাপ্য সম্মান দেয় না এবং নিজের স্বার্থে আঘাত লাগলে সত্যকে অস্বীকার করে।
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা: স্বার্থপরতার কারণে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। বিশেষ করে সম্পত্তি, যেমন বোনের ফরায়েজ বা উত্তরাধিকার সঠিকভাবে বন্টন না করার কারণে ভাই-বোনের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়, যা একটি মারাত্মক গুনাহ।
মিথ্যা বলা: নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য একজন স্বার্থপর মানুষ অবলীলায় মিথ্যা কথা বলে। কদমে কদমে মিথ্যা বলা তার অভ্যাসে পরিণত হয়।
রাসূল (সা.) বলেছেন, পূর্ববর্তী জাতিগুলো ধ্বংস হয়েছিল এই স্বার্থপরতা এবং স্বজনপ্রীতির কারণে। তাদের মধ্যে প্রভাবশালী কেউ অপরাধ করলে শাস্তি পেত না, কিন্তু দুর্বল কেউ একই অপরাধ করলে কঠোর শাস্তি ভোগ করত। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) এতটাই কঠোর ছিলেন যে তিনি বলেছিলেন, "আমার কন্যা ফাতেমাও যদি চুরি করে, আমি তার হাত কেটে দেব।"
২. প্রবৃত্তির অনুসরণ
দ্বিতীয় যে অভ্যাসটি মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, তা হলো নিজের নফস বা প্রবৃত্তির পূজা করা। মানুষের মন প্রতিনিয়ত তাকে খারাপ কাজের দিকে ডাকে। যে ব্যক্তি তার মনের লাগামহীন желаний অনুসরণ করে, সে হালাল-হারামের পার্থক্য ভুলে যায়। তার পুরোটা দিন কাটে কেবল পেটের চাহিদা মেটানো আর হারাম যৌনচারের চিন্তায়। mufti mushahid kasemi তার আলোচনায় বলেন, যে ব্যক্তি শুধু খাওয়া-দাওয়া আর কুচিন্তায় দিন কাটায়, সে দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হতে পারে না।
৩. নিজের মতকে প্রাধান্য দেওয়া
তৃতীয় ধ্বংসাত্মক অভ্যাসটি হলো নিজের রায় বা মতকে সবচেয়ে উত্তম মনে করা। যখন একজন ব্যক্তি মনে করে যে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং সেরা, তখন সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এই মানসিকতার কারণে একটি সংগঠন ভেঙে একাধিক হয়, এক মসজিদে বিভেদ তৈরি হয়। অন্যের সঠিক মতামতকে মূল্যায়ন না করে শুধু নিজের মতকে প্রতিষ্ঠা করার এই প্রবণতা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
মুক্তির পথে যে তিনটি অভ্যাস
আলোচনার এই অংশে মুফতি মুশাহিদ ক্বাসেমী সেই তিনটি অভ্যাসের কথা বলেছেন যা মানুষকে মুক্তি দেয়। ধ্বংসের কারণগুলো জানার পর মুক্তির পথ চেনা অত্যন্ত জরুরি। এই জীবন পরিবর্তনের কথা গুলো আমাদের জন্য পথপ্রদর্শক।
১. সর্বাবস্থায় ন্যায়বিচার করা: মুক্তির প্রথম পথ হলো খুশি এবং রাগ উভয় অবস্থাতেই ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। আমরা প্রায়ই রাগের মাথায় কঠোর সিদ্ধান্ত নেই আর খুশির সময় বড় অপরাধকেও ক্ষমা করে দেই। কিন্তু প্রকৃত মুক্তির পথ হলো, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, ন্যায়বিচারের পথ থেকে সরে না আসা।
২. সচ্ছল ও অসচ্ছলতায় মধ্যপন্থা: দ্বিতীয় মুক্তির পথ হলো সচ্ছলতা এবং অসচ্ছলতা উভয় অবস্থায়ই মধ্যপন্থা অবলম্বন করা। অর্থাৎ, যখন অনেক সম্পদ থাকে তখন যেমন অপচয় না করা, তেমনি অভাবের সময়ও আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্যধারণ করা।
৩. গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করা: তৃতীয় এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গোপনে এবং প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করা। এমন কোনো কাজ না করা যা আল্লাহ অপছন্দ করেন, তা মানুষ দেখুক বা না দেখুক। এই আল্লাহভীতিই মানুষকে সব ধরনের পাপ থেকে দূরে রাখে।
এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি, একটি সফল জীবনের জন্য আমাদের কোন পথ বর্জন করতে হবে এবং কোন পথ অবলম্বন করতে হবে। এই মূল্যবান আলোচনাটি একটি জনপ্রিয় waz mahfil hd media থেকে নেওয়া হয়েছে। এমন আরও শিক্ষণীয় bangla waz শুনতে আপনারা বিভিন্ন famous islamic channel অনুসরণ করতে পারেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ধ্বংসের পথ থেকে বাঁচিয়ে মুক্তির পথে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।
৩।
হেদায়েতের মালিক কে? মুফতী বশির আহমেদ এর নতুন ওয়াজ থেকে নবীজির কাহিনী
ইসলামে হেদায়েত এক অমূল্য সম্পদ, যা শুধুমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। এই হেদায়েতের পথ দেখানো এবং অন্তরে তা প্রবেশ করানোর ক্ষমতা কার হাতে, তা নিয়ে অনেক সময় আমরা বিভ্রান্তিতে পড়ি। সম্প্রতি প্রখ্যাত আলেম মুফতি বশির আহমদ বি বাড়িয়া এক ইসলামিক বয়ানে বিষয়টি অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। মুসলিম মিডিয়াতে প্রচারিত এই new bangla waz থেকে আমরা নবীজির কাহিনী এবং হেদায়েতের প্রকৃত অর্থ সম্পর্কে জানব।
মূর্তিপূজার অসারতা: হযরত সাদ (রাঃ) এর উপলব্ধি
আশারায়ে মুবাশশারা বা জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর মধ্যে অন্যতম হলেন হযরত সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাঃ)। ইসলাম গ্রহণের আগের একটি ঘটনা মনে পড়লে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে হাসতে চাইতেন। মুফতী বশির আহমেদ তার new waz মাহফিলে এই কাহিনী তুলে ধরেন।
একবার হযরত সাদ (রাঃ) সফরে বের হওয়ার আগে ভাবলেন, উপাসনার জন্য একটি মূর্তি সাথে নিয়ে যাওয়া দরকার। হাতের কাছে কিছু না পেয়ে তিনি কিছু খেজুর দিয়ে তাড়াহুড়ো করে একটি মূর্তি বানালেন। সফরের এক পর্যায়ে তার খাবার ও অর্থ শেষ হয়ে গেল। প্রচণ্ড ক্ষুধায় কাতর হয়ে তিনি তার সেই খেজুরের মূর্তির কাছে খাবার চাইলেন। কিন্তু মূর্তি তো কোনো উত্তর দেয় না।
শেষ পর্যন্ত তিনি বললেন, "তুমি যখন কিছুই বলবে না, তখন আর বাজারে গিয়ে কী হবে? খাবার তো তোমার দেহের মধ্যেই আছে।" এরপর তিনি একে একে তার সেই দেবতার হাত, পা, নাক, কান, এমনকি মাথা ভেঙে খেয়ে ফেললেন। তখন তার মনে প্রশ্ন জাগল, "যে দেবতা নিজেকেই আমার থেকে বাঁচাতে পারে না, সে কিয়ামতের দিন আমাকে কীভাবে বাঁচাবে?" এই উপলব্ধি তাকে সত্যের পথে নিয়ে আসে এবং তিনি nobi করিম (ﷺ) এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। হেদায়েত সত্যিই আল্লাহর হাতে।
বংশের ভালোবাসা বনাম ঈমান: আবু তালিবের ঘটনা
Maulana Bashir Ahmad তার ওয়াজে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নবীজির কাহিনী বর্ণনা করেন। নবীজিকে (সাঃ) যারা ভালোবাসতেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তার আপন চাচা আবু তালিব। যদিও তিনি কালিমা পড়েননি, কিন্তু বংশের মায়ায় ভাতিজাকে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন।
একবার মক্কার কাফের সর্দাররা আবু তালিবের কাছে এসে নালিশ করল যে, আপনার ভাতিজা মোহাম্মদ (ﷺ) আমাদের দেবতাদের বদনাম করে, তাই সে সন্ত্রাসী হয়ে গেছে। (নাউজুবিল্লাহ)। তারা আবু তালিবকে বলল, "হয় তাকে সংশোধন করো, না হয় আমাদের হাতে তুলে দাও।"
আবু তালিব নিজে কাফের হওয়া সত্ত্বেও তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, "তোমরাও কাফের, আমিও কাফের। আমি আমার ভাতিজার ধর্ম মানি না, কিন্তু বংশসূত্রে সে আমার ভাতিজা। আমার শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতেও আমি তাকে তোমাদের হাতে তুলে দিতে পারব না।"
এই bangla waz থেকে মুফতি বশির আহমদ আমাদের শেখান যে, আবু তালিবের এই ভালোবাসা ছিল তীব্র, কিন্তু তা ছিল বংশের টানে, ঈমানের ভিত্তিতে নয়। তাই মৃত্যুর সময় নবীজির শত অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি লজ্জার ভয়ে কালিমা পড়েননি। এতে বোঝা যায়, বংশসূত্রের ভালোবাসা দিয়ে জান্নাত পাওয়া যায় না।
হেদায়েতের প্রকৃত অর্থ কী?
এই islamic video বয়ানে মুফতি বশির সাহেব হেদায়েতের দুটি অর্থ খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেন, যা এই ওয়াজের মূল বিষয়।
১. পথ দেখিয়ে দেওয়া (ইরাআ'তুত ত্বরিক): এই দায়িত্ব হলো নবী-রাসূল এবং তাদের উত্তরসূরি আলেম-ওলামাদের। তারা মানুষকে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক পথ কোনটি তা দেখিয়ে দেন। এই new bayan থেকে আমরা সেই পথের দিশা পাই।
২. গন্তব্যে পৌঁছিয়ে দেওয়া (আল-ঈসাল ইলাল মাতলুব): অর্থাৎ, মানুষের অন্তরে হেদায়েত প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে। নবীজি (ﷺ) চাইলেই তার চাচা আবু তালিবকে হেদায়েত দিতে পারেননি, কারণ এর মালিক আল্লাহ।
বক্তা Maulana Bashir একটি চমৎকার উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করেন। যেমন কোনো পথিক রাস্তা হারিয়ে গেলে একজন তাকে পথ দেখিয়ে দিতে পারে, কিন্তু আরেকজন দয়ালু ব্যক্তি তাকে হাত ধরে গন্তব্যে পৌঁছিয়ে দিতে পারে। নবীরা প্রথম কাজটি করেন, আর আল্লাহ দ্বিতীয় কাজটি করেন। তাই কোনো bd waz বা bangla waz mahfil শুনে হেদায়েত পাওয়া সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছাধীন।
নবীগণ কি নিষ্পাপ?
Bashir Ahmed তার ওয়াজে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আকিদার বিষয় স্পষ্ট করেন। কিছু ভ্রান্ত দল প্রচার করে যে, নবীগণও ভুল বা গুনাহ করেছেন। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা হলো, নবীগণ মাসুম বা নিষ্পাপ।
তাহলে আল্লাহ কেন নবীজিকে (ﷺ) ইস্তেগফার করতে বলেছেন? এর জবাবে বশির আহমদ ওয়াজটিতে বলেন, এটি নবীর নিজের গুনাহর জন্য নয়, বরং এর দুটি কারণ রয়েছে:
উম্মতকে ইস্তেগফার শেখানোর জন্য, যেমন একজন শিক্ষক ছাত্রদের শেখানোর জন্য নিজে ABCD পড়েন।
উম্মতের নেতা হিসেবে উম্মতের গুনাহর জন্য অগ্রিম ক্ষমা চাওয়া, যেমন কোনো দলের ভুলের জন্য সরদার নিজে ক্ষমা চান।
এই আলোচনাটি যেকোনো bangla waz video তে শোনাটা জরুরি।
পরিশেষে, মুফতী বশির আহমেদ এর এই ওয়াজ আমাদের এটাই শেখায় যে, হেদায়েতের মালিক একমাত্র আল্লাহ। আমাদের কাজ হলো হক্কানী আলেমদের অনুসরণ করে সঠিক পথ চিনে নেওয়া এবং সেই পথে চলার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন।
https://youtu.be/LulGzZzWQIY